এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজ জিতলো স্বাগতিক ভারত। দিল্লিতে সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশকে ৮৬ রানে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে সুর্যকুমার যাদবের দল। জবাবে ১৩৫ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পক্ষে বোলিং শুরু করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক ওভারে ১৫ রান দেয়ায় তার পরিবর্তে তানজিম সাকিবকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলেই ওপেনার সঞ্জু স্যামসনকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। ব্যক্তিগত ১০ রানে শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সঞ্জু।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন তানজিম সাকিব। তার ছোড়া ১৪৭ কি.মি গতির বলে উড়ে যায় আরেক ওপেনার অভিষেকের স্ট্যাম্প। ব্যক্তিগত ১৫ রানে সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। পাওয়ারপ্লে’র শেষ ওভারে ভারতীয় শিবিরে তৃতীয় আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। শান্তর তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন ভারতীয় অধিনায়ক সুরিয়াকুমার।

এরপর ইনিংসের গল্পে আবির্ভাব ঘটে নিতিশ-রিঙ্কুর। দুজন মিলে গড়েন ১০৮ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৭৪ রানে মোস্তাফিজের বলে মিরাজের ক্যাচে পরিন্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন নিতিশ। অর্ধশতক তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে তাসকিনের বলে জাকেরের তালুবন্দি হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রিঙ্কুও।

হার্দিক পান্ডিয়া ও রিয়ান পরাগের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৩২ ও ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত ২২১ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

বাংলাদেশের পক্ষে ৫৫ রানের খরচায় ৩টি উইকেট তুলে নেন  রিশাদ হোসেন। ২টি করে উইকেট তুলে নেন তাসকিন, তানজিম সাকিব ও মোস্তাফিজুর রহমান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ৩ চারে ১৪ রান তুলেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তৃতীয় ওভারে আর্শদীপের অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে খেলতে গিয়ে ইন সাইড এজে বোল্ড হয়েছেন। সাজঘরে ফেরার আগে এই তরুণ ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছে ১২ বলে ১৬ রান।

তিনে নেমে নিজের খেলা প্রথম দুই বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকান নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারলেন না শান্ত। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৭ বলে ১১ রান।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তুলার দায়িত্ব ছিল লিটন দাসের কাঁধে। তবে পারলেন না এই অভিজ্ঞ ব্যাটারও। উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়ে ফিরেছেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলে বরুণ চক্রবর্তীকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন এই ওপেনার। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ১৪ রান।

দলের বিপদ আরো বাড়িয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। গত কয়েক মাস ধরে রান খরায় ভুগা এই ব্যাটার আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন। সপ্তম ওভারে অভিষেক শর্মার বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৬ বলে খেলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

দলীয় অর্ধশতকের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।  এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে মেহেদি হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তুলার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি মিরাজ। সাতে নেমে দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি জাকের আলি অনিকও।

বাকি ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি ভারতীয় বোলারদের সামনে। জাকের আলি অনিক এবং রিশাদ হোসেন মারকুটে ব্যাটিং যেন ভুলেই গেলেন। অনিক ১ এবং রিশাদ করেন ৯ রান। তানজিম হাসান সাকিব করেন ৮ রান। তাসকিন ৫ রানে ও মোস্তাফিজ ১ রানে অপরাজিত থাকেন।